যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানোর সম্ভাবনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও এখন রিজার্ভে বৈচিত্র্য আনতে স্বর্ণ ক্রয় বাড়াচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ছে স্বর্ণের। বিশ্ববাজারে সব ধরনের সরবরাহ চুক্তিতে গতকাল মূল্যবান ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি সাড়ে ৩ হাজার ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। খবর রয়টার্স। স্পট মার্কেটে গতকাল দিনব্যাপী লেনদেনের একপর্যায়ে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৫০৮ ডলার ৫০ সেন্টে পৌঁছায়। এ সময় ডিসেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে নিউইয়র্কের কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (কোমেক্স) পণ্যটির দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি মূল্য দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৫৭ ডলার ৮০ সেন্টে।
অনলাইনভিত্তিক বিনিয়োগ প্লাটফর্ম নিমো ডট মানির প্রধান বাজার বিশ্লেষক হ্যান ট্যান বলেছেন, ‘ফেডের সুদহার কমানোর প্রত্যাশায় স্বর্ণের দাম বাড়ছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয় ও আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে চাহিদা বৃদ্ধিও মূল্যবান ধাতুটির দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে। মার্কিন শুল্কের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রভাবিত হলে তা আরো ঊর্ধ্বমুখী হবে।’
সিএমই ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর ফেডের ২৫ বেসিস পয়েন্ট হারে সুদহার কমানোর সম্ভাবনা বাজারে ৯০ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৫ সালে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার পরিপ্রেক্ষিতে স্বর্ণের দাম একাধিকবার রেকর্ড ছুঁয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের বিনিময় হার কমে যাওয়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বমুখী ক্রয় এবং আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে চাহিদা বৃদ্ধি মূল্যবান ধাতুটির দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে।
গত বছর স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২৭ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। চলতি বছরের মার্চে প্রথমবারের মতো আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ডলার অতিক্রম করে।
এদিকে বিনিয়োগকারীরা শুক্রবার প্রকাশিতব্য মার্কিন কর্মসংস্থানের তথ্যের (কৃষি ছাড়া অন্যান্য খাত) অপেক্ষা করছেন। এ তথ্য ফেডের নীতির বিষয়ে ইঙ্গিত দিতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
রয়টার্সের জুলাই প্রান্তিকের জরিপ অনুযায়ী, বিশ্লেষকরা ২০২৫ সালে স্বর্ণের গড় দাম আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ২২০ ডলার হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন।
এদিকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় রুপায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ি, সৌরশক্তি, ইলেকট্রনিকস ও চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরিতে ধাতুটির ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। শিল্প খাতের চাহিদাও বেড়েছে। তবে বিশ্ববাজারে পণ্যটির সরবরাহ তেমন বাড়েনি। এর প্রভাবে স্পট মার্কেটে রুপার দাম আউন্সপ্রতি ৪০ ডলার ছাড়িয়েছে। গতকাল স্পট মার্কেটে ধাতুটি বেচাকেনা হয়েছে প্রতি আউন্স ৪০ ডলার ৩৯ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৭ শতাংশ কম।
এ সময় প্লাটিনামের দাম দশমিক ৯ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৩৮৬ ডলার ৪০ সেন্ট হয়েছে। গতকাল প্যালাডিয়াম বেচাকেনা হয়েছে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ১২০ ডলার ৫৪ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কম।